প্রোগ্রামারদের ভবিষ্যৎ 'আসলেই' কেমন হতে যাচ্ছে? একটা রিয়েলিটি চেক দেওয়া যাক।
'AI আসলে কি সত্যিই প্রোগ্রামারদের চাকরি নিয়ে নেবে?' - এই প্রশ্নটা এখন মোস্ট আস্কড কোয়েশ্চানগুলোর একটা। ইভেন, GenZ গুগোলে AI কি ভাত মেরে দিবে কিনা, এই প্রশ্নের উত্তর খুঁজেই দিন কাটাচ্ছে।
সত্যি কথা বলতে, AI কিছু প্রোগ্রামারের চাকরি নেবে। আবার, কিছু প্রোগ্রামারকে 10x, 20x, 30x গ্রোথ এনে দিবে।
পার্থক্যটা শুধু কোডিং নলেজে না বরং থিংকিং প্রসেসে।
আমাদের বিভিন্ন পোস্টে তোমরা অনেকেজ কোয়েশ্চান করে, "ভাই, আমি কষ্ট করে কোড করছি, কোড শিখছি, এখন AI এসে সব শেষ করে দেবে?"
তোমাদের এই ভয়টা অযৌক্তিক না, কিন্তু পুরো ছবিটাও এটা না।
যে প্রোগ্রামার শুধু কোড টাইপ করতে জানে, তার জায়গায় AI ইতিমধ্যে বসে গেছে। GitHub Copilot, Cursor, Claude এখন মিনিটের মধ্যে সেই কাজটা করে দিচ্ছে যেটা করতে আগে ঘণ্টা লাগত। এটা অস্বীকার করার কিছু নেই।
কিন্তু যে প্রোগ্রামার বুঝতে পারে একটা সিস্টেম কীভাবে ডিজাইন হবে, কোথায় কোন সিদ্ধান্ত নিতে হবে এবং কেন, তার চাহিদা আগের চেয়ে বরং বেড়েছে।
ক্যালকুলেটর আসার পর গণিতবিদরা হারিয়ে যায়নি। তারা যোগ-বিয়োগ ছেড়ে বড় সমস্যায় মনোযোগ দিয়েছে।
এখন প্রশ্ন, তাহলে ভবিষ্যতে কোন প্রোগ্রামারদের কাজ কী হবে? এন্ড, কারা মার্কেটে টিকে থাকবে?
পাঁচটা জায়গায় কাজ সবচেয়ে বেশি থাকবে। তবে সব পাঁচটা সমান গুরুত্বপূর্ণ না, প্রথম দুটো নিয়ে একটু বেশি বলব।
দুঃখিত, আমি আগের অংশটুকুর সাথে মার্জ করে দিচ্ছি। তোমার দেওয়া মূল টেক্সট এবং ব্যাখ্যাগুলো একসাথে নিচে দেওয়া হলো:
১. Agentic Workflow ডিজাইন :
এটি এমন এক সিস্টেম যেখানে AI শুধু প্রশ্নের উত্তর দেয় না, বরং নিজে থেকেই একটার পর একটা ধাপ পার করে কাজ শেষ করে। অর্ডার নেওয়া থেকে শুরু করে ডেলিভারি কনফার্ম করা পর্যন্ত পুরো চেইনটি নিজে ম্যানেজ করাই এর কাজ।
আমরা এই বিষয়টা নিয়ে সবচেয়ে বেশি excited, honestly। AI চ্যাটবট থেকে AI Agent-এ রূপান্তর হচ্ছে। চ্যাটবট কথা বলে, Agent কাজ করে। অ্যামাজনের ওয়্যারহাউজে এটা ইতিমধ্যে দেখা যাচ্ছে, অর্ডার থেকে ডেলিভারি পর্যন্ত পুরো প্রক্রিয়া autonomous হয়ে যাচ্ছে। এই জটিল chain কে কে ডিজাইন করবে? মানুষ। এবং সেই মানুষটার দাম হবে আকাশছোঁয়া।
২. Edge AI অ্যাপ্লিকেশন :
সাধারণত AI চালানোর জন্য ইন্টারনেটের মাধ্যমে বড় সার্ভারের সাহায্য নিতে হয়, কিন্তু Edge AI সরাসরি তোমার ফোন বা ল্যাপটপের চিপ ব্যবহার করে চলে। এর ফলে ইন্টারনেট ছাড়াই ডিভাইসটি স্মার্টলি কাজ করতে পারে।
Apple-র M-series চিপ একটা বিপ্লব এনেছে। AI এখন আর শুধু cloud-এ না, তোমার হাতের ডিভাইসেই চলছে। ইন্টারনেট ছাড়া, সার্ভার ছাড়া। এই offline-intelligent সিস্টেম বানাতে পারাটা আগামী পাঁচ বছরের সবচেয়ে মূল্যবান দক্ষতা হবে বলে আমাদের মনে হয়, যদিও এটা নিয়ে সবাই একমত না।
৩. Probabilistic সিস্টেম ডিজাইন :
আগের সফটওয়্যার নির্দিষ্ট কমান্ডে চলত, কিন্তু এই সিস্টেম ডেটা বিশ্লেষণ করে নিজে থেকে সম্ভাবনা বা প্রেডিকশন তৈরি করে। এটি ইউজারের অভ্যাস বুঝে কোনো ইনপুট ছাড়াই পরবর্তী পদক্ষেপ কী হতে পারে তা আন্দাজ করতে পারে।
অর্থাৎ, আগের সফটওয়্যার ছিল রেসিপির মতো। এখনকার সফটওয়্যার ডেটা দেখে নিজে ডিসিশন মেইক করে। একটা মিউজিক অ্যাপ এখন বুঝতে পারে তোমার মেজাজ কেমন, কোনো command ছাড়াই। এই ধরনের সিস্টেম ভাবতে পারাটাই আসল কাজ।
৪. LLM Orchestration :
এটি মূলত অনেকগুলো AI মডেল বা টুলকে একসাথে যুক্ত করে একটি বড় ও জটিল প্রজেক্ট দাঁড় করানোর প্রসেস। এখানে কোড লেখার চেয়ে বেশি ফোকাস থাকে বিভিন্ন AI টুলকে কাজে লাগিয়ে পুরো আর্কিটেকচারটা সাজানোর ওপর।
ভবিষ্যতের প্রোগ্রামার ঘণ্টার পর ঘণ্টা syntax ঠিক করবে না। ইভেন, ভবিষ্যত না। এখনই এমনটা হচ্ছে। একাধিক AI টুলকে সাথে নিয়ে করে বড় প্রজেক্ট দাঁড় করাবে। হাতের কলম হবে AI, মাথা হবে architect।
৫. Formal Verification :
সফটওয়্যার বা কোডে কোনো ভুল নেই—সেটা ম্যাথমেটিকালি প্রুফ করা প্রমাণ করার প্রসেসই হলো Formal Verification। ব্যাংক বা হাসপাতালের মতো জায়গায় যেখানে ছোট ভুলও বড় বিপদ ঘটাতে পারে, সেখানে নিখুঁত নিশ্চয়তা পাওয়ার জন্য এটি ব্যবহার করা হয়।
অনেস্টলি বলতে গেলে, এটা এখনই সবার জন্য দরকারি না। তবে ব্যাংকিং বা হাসপাতালের মতো critical সিস্টেমে যারা কাজ করবে, তাদের জন্য এটা অপরিহার্য হয়ে যাবে।
সহজ করে বললে ভবিষ্যতটা কেমন?
আন্সার ইজ, কোড লেখা সস্তা হয়ে যাবে।
কিন্তু একটা সিস্টেমকে scalable, secure এবং intelligent করে ডিজাইন করার দক্ষতা হবে অমূল্য।
প্রোগ্রামিংয়ের মৃত্যু হচ্ছে না। প্রোগ্রামারের সংজ্ঞাটা বদলে যাচ্ছে।
আমরা নিশ্চিত না এই পরিবর্তন ঠিক কতটা দ্রুত আসবে। হয়তো পাঁচ বছর, হয়তো দশ। কিন্তু আসবে, এটা নিয়ে কোনো সন্দেহ নেই।